ওয়েবসাইট নেভিগেশন ডিজাইন: কেন ভিজিটর মেনুতে ঢুকেই হারিয়ে যায়
ভিজিটর আপনার সাইটে ঢোকার পর প্রথম যেটার মুখোমুখি হয়, সেটা হোমপেজের হেডলাইন না, নেভিগেশন মেনু। ওয়েবসাইট নেভিগেশন ডিজাইন যদি এলোমেলো হয়, ভিজিটর দুই ক্লিকের মধ্যেই বুঝে ফেলে সাইটটা কতটা পেশাদার। তারপর ব্যাক বাটনে ক্লিক করে চলে যায়। সমস্যাটা কনটেন্টে না, সমস্যাটা মেনুতে।
১০+ বছর ধরে ওয়ার্ডপ্রেস সাইট বানানো এবং ৯৫০+ ফাইভার ক্লায়েন্ট প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা থেকে একটা প্যাটার্ন বারবার চোখে পড়ে: বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট ডিজাইন, কালার, ফন্ট নিয়ে যতটা মাথা ঘামান, নেভিগেশন নিয়ে ততটা ঘামান না। অথচ নেভিগেশনই ঠিক করে দেয় ভিজিটর সাইটে থাকবে না চলে যাবে।
নেভিগেশন খারাপ হলে ঠিক কী ক্ষতি হয়
নেভিগেশন খারাপ হলে ভিজিটর প্রয়োজনীয় পেজ খুঁজে পায় না, আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সাইট ছেড়ে চলে যায়। এটা সরাসরি বাউন্স রেট বাড়ায় এবং কনভার্শন কমায়। গুগলও পেজ স্ট্রাকচার এবং ইন্টারনাল লিংকিং দেখে সাইটের মান বিচার করে, তাই খারাপ নেভিগেশন SEO-তেও প্রভাব ফেলে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই ক্ষতিটা চোখে দেখা যায় না। অ্যানালিটিক্সে শুধু বাউন্স রেট বা এক্সিট রেট বাড়তে দেখা যায়, কিন্তু কারণ হিসেবে নেভিগেশনকে সহজে সন্দেহ করা হয় না। ফলে সমস্যাটা মাসের পর মাস থেকেই যায়।
মেনুতে বেশি আইটেম রাখা সবচেয়ে বড় ভুল
প্রধান মেনুতে ৫-৭টির বেশি আইটেম থাকলে ভিজিটরের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। একে বলে চয়েস প্যারালাইসিস: অপশন বেশি হলে মানুষ কোনো একটাও বাছাই করতে পারে না, শেষে কিছুই ক্লিক করে না। ওয়েবসাইট মালিকরা প্রায়ই প্রতিটা সার্ভিস বা পেজকে আলাদা মেনু আইটেম বানিয়ে ফেলেন, যেটা আসলে ক্ষতিকর।
সমাধান হলো সম্পর্কিত পেজগুলোকে একটা ড্রপডাউনের নিচে গুছিয়ে রাখা। যেমন আলাদা আলাদা “ওয়েব ডিজাইন”, “লোগো ডিজাইন”, “SEO সার্ভিস” মেনু আইটেম না রেখে একটা “সার্ভিসেস” মেনুর নিচে ড্রপডাউনে সবগুলো রাখা ভালো।
মেগা মেনু: কখন দরকার, কখন বিপদ
মেগা মেনু সব ওয়েবসাইটের জন্য দরকার না। ই-কমার্স সাইট বা এমন সাইট যেখানে অনেকগুলো ক্যাটাগরি বা প্রোডাক্ট আছে, সেখানে মেগা মেনু ভিজিটরকে দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। কিন্তু একটা পোর্টফোলিও বা সার্ভিস-বেসড সাইটে মেগা মেনু বসিয়ে দিলে সেটা বরং জটিলতা বাড়ায়।
ছোট বা মাঝারি সাইটের জন্য সাধারণ ড্রপডাউন যথেষ্ট। মেগা মেনু তখনই বসানো উচিত যখন একটা ক্যাটাগরির নিচে অন্তত ৮-১০টা সাব-আইটেম থাকে এবং সেগুলো ভিজিটরের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এলিমেন্টর বা কাডেন্স দিয়ে সাইট বানানো হলে মেগা মেনু বিল্ট-ইন উইজেট হিসেবেই পাওয়া যায়, আলাদা প্লাগইনের দরকার হয় না।
মোবাইল নেভিগেশন: হ্যামবার্গার আইকনের ভেতরে কী থাকা উচিত
বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভিজিটর মোবাইল থেকে আসে, তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইন ছাড়া নেভিগেশন আলোচনা অসম্পূর্ণ। হ্যামবার্গার মেনু আইকন এখনো ছোট স্ক্রিনের জন্য সবচেয়ে পরীক্ষিত সমাধান, তবে আইকনটা কমপক্ষে ৪৪x৪৪ পিক্সেল সাইজের হতে হবে এবং ট্যাপ করার সাথে সাথে খুলতে হবে।
একটা সাধারণ ভুল হলো মোবাইল মেনুতে ডেস্কটপের সবকিছু হুবহু কপি করে দেওয়া। মোবাইলে স্ক্রল করা কষ্টকর, তাই মেনু যত ছোট এবং সরাসরি রাখা যায় ততই ভালো। সাব-মেনু থাকলে সেটা ট্যাপ করলেই খুলবে, আলাদা পেজে নিয়ে যাবে না, এই আচরণটা নিশ্চিত করা জরুরি।
নেভিগেশন লেবেল: চালাকি না, স্পষ্টতা
মেনু আইটেমের নাম যত সাধারণ এবং স্পষ্ট হবে, ভিজিটর তত দ্রুত বুঝবে ভেতরে কী আছে। “Explore”, “Discover”, “Journey” এর মতো ক্রিয়েটিভ শব্দ শুনতে সুন্দর লাগে, কিন্তু ভিজিটর বিভ্রান্ত হয়। “সার্ভিস”, “কোর্স”, “ব্লগ”, “যোগাযোগ” এর মতো সরাসরি শব্দ সবসময় ভালো কাজ করে।
এই একই ভুল CTA বাটন ডিজাইন গাইডে আলোচনা করা হয়েছে, কারণ বাটনের লেখা এবং মেনুর লেখা একই নিয়ম মেনে চলে: ভিজিটরকে অনুমান করতে বাধ্য করা যাবে না।
ব্রেডক্রাম্ব এবং সার্চ বার ভিজিটরকে হারিয়ে যেতে দেয় না
বড় সাইটে, বিশেষ করে যেখানে অনেক ব্লগ পোস্ট বা প্রোডাক্ট আছে, ব্রেডক্রাম্ব (যেমন: হোম > ব্লগ > ওয়েব ডিজাইন) ভিজিটরকে বুঝিয়ে দেয় সে সাইটের ঠিক কোন জায়গায় আছে। এটা ছোট একটা ফিচার মনে হলেও ভিজিটরকে ফিরে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয়, যা বাউন্স রেট কমাতে সাহায্য করে।
সার্চ বারও একইভাবে কাজ করে। যে ভিজিটর মেনু ঘেঁটে ঘেঁটে পেজ খুঁজতে চায় না, সে সরাসরি সার্চ বক্সে গিয়ে টাইপ করে। ব্লগ বা কোর্সের সংখ্যা বেশি হলে হেডারে একটা সার্চ আইকন রাখা উচিত, এতে ভিজিটরের সময় বাঁচে এবং সাইট বেশি পেশাদার লাগে।
নিজের সাইটের নেভিগেশন যেভাবে অডিট করবেন
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে যে কেউ নিজের ওয়েবসাইটের নেভিগেশন কয়েক মিনিটেই অডিট করতে পারে।
- মেনুর প্রতিটা আইটেম গুনুন, ৭টার বেশি হলে ড্রপডাউনে গ্রুপ করুন
- মোবাইলে সাইট খুলে হ্যামবার্গার আইকন ট্যাপ করে দেখুন কতটা দ্রুত খোলে
- প্রতিটা মেনু লেবেল পড়ে দেখুন, কারো ব্যাখ্যা ছাড়াই বোঝা যায় কিনা
- গুগল অ্যানালিটিক্সে দেখুন কোন পেজ থেকে ভিজিটর বেশি বের হয়ে যাচ্ছে
- বড় সাইট হলে ব্রেডক্রাম্ব এবং সার্চ বার আছে কিনা যাচাই করুন
যাদের নিজের হাতে এই অডিট করার সময় নেই বা কোথায় শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন সার্ভিস থেকে কনভার্শন-ফোকাসড নেভিগেশন স্ট্রাকচার সহ পুরো ডিজাইন করিয়ে নেওয়া যায়, যেখানে ডিজাইন শুরু হয় ৪,৯৯০ টাকা থেকে।
নিজে নিজে ওয়ার্ডপ্রেসে মেনু, ড্রপডাউন এবং মেগা মেনু ঠিকভাবে সেট করতে শিখতে চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস প্রো কোর্স থেকে পুরো প্রসেসটা প্র্যাকটিক্যালি শেখা যায়।
শেষ কথা
ওয়েবসাইট নেভিগেশন ডিজাইন কোনো সাজসজ্জার বিষয় না, এটা সরাসরি কনভার্শনের সঙ্গে যুক্ত একটা কাঠামোগত সিদ্ধান্ত। মেনু ছোট রাখুন, লেবেল স্পষ্ট রাখুন, মোবাইলে দ্রুত খুলুক, ব্যস এই তিনটা নিয়ম মানলেই বেশিরভাগ সমস্যা এমনিতেই কমে যায়। নিজে ঠিক করার সময় বা দক্ষতা না থাকলে পেশাদারভাবে করাতে চাইলে ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন সার্ভিস থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।