মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইন: কেন ডেস্কটপ-ফার্স্ট চিন্তা আপনার বিক্রি কমাচ্ছে
আপনার ওয়েবসাইট ডেস্কটপে দেখতে দুর্দান্ত লাগতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা আপনার সাইটে ঢুকছে, তাদের বেশিরভাগই ঢুকছে মোবাইল থেকে। মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইন এখন আর বাড়তি কোনো ফিচার না, এটাই আপনার ব্যবসার মূল ভিত্তি।
তবু বেশিরভাগ ওয়েবসাইট এখনো ডিজাইন হয় ডেস্কটপ মাথায় রেখে, তারপর মোবাইলের জন্য কোনোভাবে মানিয়ে নেওয়া হয়। এই উল্টো অভ্যাসটাই বিক্রি কমার সবচেয়ে বড় কারণ।
মোবাইল ট্র্যাফিক নিয়ে ভুল ধারণা ছাড়ুন
Cloudflare আর StatCounter এর ডেটা বলছে, বাংলাদেশের ওয়েবসাইট ট্র্যাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি আসে মোবাইল ডিভাইস থেকে। মানে প্রতি ১০ জন ভিজিটরের মধ্যে ৬-৭ জনই আপনার সাইট দেখছেন মোবাইলে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, আপনার হোমপেজ, লোডিং স্পিড, আর CTA বাটন কি মোবাইলে ঠিকমতো কাজ করছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হয় না। ডেস্কটপে যেটা প্রিমিয়াম লাগে, মোবাইলে সেটাই হয়ে যায় বিরক্তিকর।
রেসপন্সিভ ওয়েব ডিজাইন আর মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন এক জিনিস না
অনেকে ভাবেন থিম রেসপন্সিভ মানেই সাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি হয়ে গেছে। এই ধারণা ভুল। রেসপন্সিভ ডিজাইন মানে স্ক্রিন সাইজ অনুযায়ী লেআউট ভাঙে না, কিন্তু মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন মানে মোবাইল ব্যবহারকারীর আঙুল, চোখ, আর ধৈর্য মাথায় রেখে পুরো অভিজ্ঞতা সাজানো।
একটা রেসপন্সিভ থিমেও মোবাইলে ছোট ফন্ট, চাপা বাটন, আর ধীরগতির স্লাইডার থাকতে পারে। কোডে কিছু ভাঙেনি, লেআউটও ঠিক আছে, কিন্তু ব্যবহারকারী বিরক্ত হয়ে সাইট ছেড়ে চলে যায়। এটাই মোবাইল অপটিমাইজেশনের আসল পরীক্ষা, শুধু লেআউট ভাঙা না ভাঙা না।
ডেস্কটপ-ফার্স্ট ডিজাইনের সাধারণ ভুলগুলো
ডেস্কটপ মাথায় রেখে ডিজাইন করা সাইটে এই ভুলগুলো বারবার দেখা যায়:
এই ভুলগুলোই ল্যান্ডিং পেজের কনভার্শন রেট কমার মূল কারণ। বিস্তারিত পড়ুন ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন গাইড এ, যেখানে হোমপেজ আর ল্যান্ডিং পেজের পার্থক্য থেকে শুরু করে CTA বাটন সাজানো পর্যন্ত সবকিছু আলোচনা করা হয়েছে।
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইনের চেকলিস্ট
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন করতে জটিল কিছু লাগে না। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই বেশিরভাগ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়:
- প্রথমে মোবাইল লেআউট ডিজাইন করুন, পরে সেটাকে বড় করে ডেস্কটপের জন্য সাজান।
- ট্যাপ টার্গেট অন্তত ৪৮x৪৮ পিক্সেল রাখুন, যাতে আঙুল দিয়ে সহজে সঠিক জায়গায় চাপা যায়।
- ছবি WebP ফরম্যাটে কমপ্রেস করুন এবং lazy loading চালু রাখুন।
- ফর্মে যতটা সম্ভব কম ফিল্ড রাখুন, প্রয়োজনে মাল্টি-স্টেপ ফর্ম ব্যবহার করুন।
- ফন্ট সাইজ ১৬ পিক্সেলের নিচে নামাবেন না, নয়তো ব্যবহারকারীকে বারবার জুম করতে হবে।
- রিয়েল মোবাইল ডিভাইসে টেস্ট করুন, শুধু ব্রাউজারের ডিভটুলস দিয়ে না।
মোবাইল স্পিড ছাড়া মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন অসম্পূর্ণ
ডিজাইন যতই সুন্দর হোক, সাইট লোড হতে ৫ সেকেন্ড লাগলে সেই ডিজাইন কেউ দেখবেই না। মোবাইল নেটওয়ার্ক ডেস্কটপ ওয়াইফাই থেকে ধীর, তাই মোবাইলে স্পিড অপটিমাইজেশন আরও বেশি জরুরি।
এই বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুন ওয়ার্ডপ্রেস স্পিড অপটিমাইজেশন গাইড এ। নিজে স্পিড ঠিক করার সময় বা টেকনিক্যাল দক্ষতা না থাকলে, সেই কাজটা মানিব্যাক গ্যারান্টিসহ স্পিড অপটিমাইজেশন সার্ভিস এর মাধ্যমে করানো যায়।
আপনার সাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা কীভাবে বুঝবেন
Google এর PageSpeed Insights এর মোবাইল স্কোর দিয়ে শুরু করা যায়। কিন্তু আসল পরীক্ষা হলো নিজের ফোনে সাইটটা খুলে অন্তত ৩০ সেকেন্ড ব্যবহার করে দেখা।
স্ক্রল করতে গিয়ে বিরক্ত লাগলে, বাটনে চাপতে গিয়ে ভুল জায়গায় চাপ পড়লে, বা ছবি লোড হতে দেরি হলে, ধরে নিন আপনার ভিজিটরও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, শুধু তারা অভিযোগ না করে সাইট ছেড়ে চলে যান।
১০+ বছর ধরে WordPress সাইট বানানো এবং ৯৫০+ Fiverr ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট শেষে, এটাই সেই প্রসেস যা টিকে থাকে: ডিজাইন শুরু হয় মোবাইল দিয়ে, ডেস্কটপ দিয়ে না। যে সাইট এই নিয়ম মেনে তৈরি হয়, সেটাই বছরের পর বছর ভালো পারফর্ম করে।
শেষ কথা
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ডিজাইন কোনো ট্রেন্ড না, এটা এখন বেসিক প্রত্যাশা। যে সাইট মোবাইলে স্বস্তিতে ব্যবহার করা যায় না, সেই সাইট বিক্রি হারায়, তা যত সুন্দরই দেখতে হোক না কেন।
নিজে সাইট রিডিজাইন করার সময় বা দক্ষতা না থাকলে, ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন সার্ভিস থেকে শুরু করা যায়। আর নিজে হাতে-কলমে শিখে নিজের বা ক্লায়েন্টের জন্য মোবাইল ফ্রেন্ডলি সাইট বানাতে চাইলে, ভর্তি হওয়া যায় Build Portfolio Website কোর্সে।