ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ না রাখলে যা হারাতে পারেন: সঠিক ব্যাকআপ স্ট্র্যাটেজি
একটা প্লাগিন আপডেট করলেন, সাইট সাদা স্ক্রিন দেখাচ্ছে। হোস্টিং সার্ভার হ্যাক হয়ে গেল, সব ফাইল গায়েব। এই মুহূর্তে একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে: শেষ ব্যাকআপ কবে নিয়েছিলেন? ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ ছাড়া একটা সাইট চালানো মানে সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালানো, যতক্ষণ দুর্ঘটনা না ঘটে ততক্ষণ সব ঠিকঠাক মনে হয়।
১০+ বছর ধরে ওয়ার্ডপ্রেস সাইট বানানো এবং ৯৫০+ ফাইভার ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা একটা জিনিস স্পষ্ট করে দেয়: যেসব সাইট বছরের পর বছর টিকে থাকে, সেগুলোর পেছনে কোনো না কোনো ব্যাকআপ সিস্টেম কাজ করে। শখের বসে চালানো ব্লগ থেকে শুরু করে ক্লায়েন্টের ই-কমার্স সাইট, সব জায়গাতেই নিয়মটা এক।
শুধু হোস্টিং কোম্পানির ব্যাকআপে ভরসা করা কেন বিপজ্জনক
বেশিরভাগ শেয়ার্ড হোস্টিং প্ল্যানে একটা “ফ্রি ব্যাকআপ” থাকে, কিন্তু সেটা সাধারণত সার্ভার-লেভেল স্ন্যাপশট, সাইট-স্পেসিফিক না। এই ব্যাকআপ কতদিন রাখা হবে, কতবার নেওয়া হবে, আর রিস্টোর করতে কত সময় লাগবে, এসব পুরোপুরি হোস্টিং কোম্পানির নিয়মের উপর নির্ভর করে। অনেক সময় সার্ভার ক্র্যাশ করলে ব্যাকআপও একসাথে হারিয়ে যায়, কারণ সেটাও একই সার্ভারে থাকে।
এখানেই সমস্যা তৈরি হয়। ধরা যাক একটা ম্যালওয়্যার অ্যাটাক হলো, আর সেটা তিন সপ্তাহ ধরে অলক্ষ্যে সাইটে ছিল। হোস্টিং কোম্পানির কাছে যদি শুধু গত সাত দিনের ব্যাকআপ থাকে, তাহলে প্রতিটা রিস্টোর পয়েন্টেই ম্যালওয়্যার থেকে যাবে। এই কারণেই সাইটের মালিকের নিজের হাতে, নিজের কন্ট্রোলে একটা আলাদা ব্যাকআপ সিস্টেম রাখা জরুরি। এই ঝুঁকিগুলো ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট না করলে সাইট হ্যাক হওয়ার আসল কারণ নিয়ে লেখা পোস্টেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
৩-২-১ ব্যাকআপ রুল: প্রফেশনালরা যেভাবে ব্যাকআপ সাজায়
৩-২-১ রুল মানে হলো, একটা ফাইলের অন্তত ৩টা কপি রাখা, ২টা ভিন্ন স্টোরেজ মাধ্যমে রাখা, এবং ১টা কপি সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় (অফসাইট) রাখা। ওয়ার্ডপ্রেসের ক্ষেত্রে এটা এভাবে সাজানো যায়:
এই রুল মানলে একটা সার্ভার সমস্যা, একটা প্লাগিন কনফ্লিক্ট, বা একটা ভুল আপডেট, কোনোটাই পুরো সাইট হারানোর কারণ হয় না। ডেটাবেজ আর মিডিয়া ফাইল আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা থাকলে রিস্টোরও দ্রুত হয়।
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ প্লাগিন বেছে নেওয়ার নিয়ম
ভালো ব্যাকআপ প্লাগিন বাছাই করার সময় দাম না দেখে তিনটা জিনিস আগে দেখা উচিত: অটোমেটিক শিডিউল সাপোর্ট করে কিনা, রিমোট স্টোরেজে (Google Drive, Dropbox, Amazon S3) সরাসরি পাঠাতে পারে কিনা, আর ওয়ান-ক্লিক রিস্টোর অপশন আছে কিনা। UpdraftPlus, Duplicator, আর BackupBliss, এই তিনটা প্লাগিনই এই তিনটা শর্ত পূরণ করে, ফ্রি ভার্সনেও।
ধাপে ধাপে সেটআপ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়:
- প্লাগিন ইনস্টল করে রিমোট স্টোরেজ (Google Drive বা Dropbox) কানেক্ট করুন
- ডেটাবেজ ব্যাকআপ প্রতিদিন, আর ফাইল ব্যাকআপ সপ্তাহে একবার শিডিউল করুন
- কয়টা ব্যাকআপ কপি রাখা হবে সেই রিটেনশন লিমিট সেট করুন, যাতে স্টোরেজ পূর্ণ না হয়ে যায়
- প্রথম ব্যাকআপ নেওয়ার সাথে সাথে একবার টেস্ট রিস্টোর করে দেখুন সেটা আসলে কাজ করে কিনা
রিস্টোর করার আগে যা টেস্ট করা দরকার
একটা ব্যাকআপ ফাইল থাকা মানেই সেটা কাজ করবে, এই ধারণা ভুল। ব্যাকআপ ফাইল করাপ্টেড হতে পারে, অসম্পূর্ণ হতে পারে, বা ডেটাবেজ আর মিডিয়া ফাইলের মধ্যে সিঙ্ক নাও থাকতে পারে। তাই লাইভ সাইটে সরাসরি রিস্টোর করার আগে স্টেজিং সাইট বা লোকাল সার্ভারে একবার টেস্ট রিস্টোর করে দেখে নেওয়া নিরাপদ।
বেশিরভাগ হোস্টিং প্যানেলে (cPanel সহ) স্টেজিং সাইট তৈরির অপশন থাকে। যে হোস্টিং এই অপশন দেয় না, সেই হোস্টিং আসলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করে, এই বিষয়টা হোস্টিং কেনার আগে যে ৭টি ভুল বেশিরভাগ মানুষ করে এই পোস্টে বিস্তারিত লেখা আছে।
ব্যাকআপ শিডিউল: কতদিন পরপর নেওয়া উচিত
শিডিউল নির্ভর করে সাইটে কতবার কনটেন্ট বদলায় তার উপর। প্রতিদিন অর্ডার আসা ই-কমার্স সাইটের জন্য ডেটাবেজ ব্যাকআপ প্রতিদিন, এমনকি দিনে দুইবার নেওয়া দরকার। সাধারণ ব্লগ বা পোর্টফোলিও সাইটের জন্য সপ্তাহে একবার যথেষ্ট। বড় আপডেট, থিম পরিবর্তন, বা নতুন প্লাগিন ইনস্টলের ঠিক আগে একটা ম্যানুয়াল ব্যাকআপ নেওয়াটা সবসময় নিয়মে রাখা উচিত, শিডিউলের বাইরে হলেও।
যেসব ফ্রিল্যান্সার একাধিক ক্লায়েন্ট সাইট ম্যানেজ করেন, তাদের জন্য এই নিয়মটা আরও কড়াকড়ি হওয়া উচিত। ক্লায়েন্টের সাইট ব্যাকআপ ছাড়া কাজ করা মানে নিজের রেপুটেশন ঝুঁকিতে ফেলা, কারণ কিছু ভুল হলে দায় শেষমেশ ডেভেলপারের ঘাড়েই আসে।
শেষ কথা
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ কোনো অতিরিক্ত কাজ না, এটা সাইট চালানোর মৌলিক দায়িত্ব। যে সাইটে ৩-২-১ ব্যাকআপ রুল, নিয়মিত শিডিউল, আর টেস্টেড রিস্টোর প্রসেস আছে, সেই সাইট যেকোনো দুর্ঘটনার পরও কয়েক মিনিটে ফিরে আসতে পারে। নিজে পুরো সিস্টেমটা ঠিকভাবে সেট করতে না চাইলে, বা রিলায়েবল হোস্টিং খুঁজছেন যেখানে ব্যাকআপ আর স্পিড দুটোই ঠিকঠাক থাকে, তাহলে Coders Foundation-এর ডোমেইন ও হোস্টিং সার্ভিস দেখে নিতে পারেন। আর যারা পুরো ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজমেন্ট, ব্যাকআপ থেকে শুরু করে সিকিউরিটি পর্যন্ত, নিজে শিখে ফেলতে চান, তাদের জন্য আছে WordPress Pro: From Beginner to Expert কোর্স।